শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের। সেই দাবি পূরণে এবার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে সরকার। জেলাটিতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী মঙ্গলবার সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রাথমিক পরিদর্শনে শেরপুর আসছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
পরিদর্শনকারী প্রতিনিধিদলে সভাপতি হিসেবে থাকছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ আরও পাঁচজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই কৃষিপ্রধান ও খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত শেরপুর। ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেভাবে। গত ২৫ বছর জেলায় হেভিওয়েট মন্ত্রী ও সংসদীয় হুইপের আধিপত্য থাকলেও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।
তবে গত বছরের ১৫ মে শেরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ১৪ কিলোমিটারব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। সেই মানববন্ধনে মেডিকেল কলেজসহ পাঁচ দফা দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার বর্তমান সরকার শেরপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করতে প্রতিনিধিদলকে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই খবরে জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
এ বিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, বিশিষ্ট নাগরিক এ টি এম আমির হোসেন ও জ্যেষ্ঠ নাগরিক আব্দুস ছালাম (বিএসসি) জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে শেরপুরবাসীকে এই উপহার দেওয়ায় তারা কৃতজ্ঞ।
প্রতিনিধিদলের সদস্য জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “চিঠি পেয়েছি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পরিদর্শন শেষে একটি গঠনমূলক ও ইতিবাচক মতামত আমরা দেব। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ হওয়া অবশ্যই খুশির খবর।”
বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও জনবলসংকটের কারণে ১০০ শয্যার সামর্থ্য দিয়ে চলছে। ফলে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ ছাড়া ভৌগোলিক কারণে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার অনেক মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত রোগীর চাপে বর্তমানে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা প্রায় ভেঙে পড়েছে। মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলে এই সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।