শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সারাদেশে জরুরি সতর্ক বার্তা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ব্রাজিল–জাপানের লড়াইয়ে শেষ হাসি কার..? পরিসংখ্যান কি বলছে…? শেরপুরে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধকরন ও শিক্ষা উপকরন বিতরণ শেরপুরে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সজন মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাদকবিরোধী র‍্যালি শেরপুর পৌরসভার প্রায় ৭১ কোটির টাকার বাজেট ঘোষণা শেরপুরে ক্যাডেট এএসআই নিয়োগের প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন ৬০০ কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান, ক্ষোভে ফুঁসছে নেতানিয়া’হু ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করলো আরব আমিরাত শ্রীবরর্দীর ঢেউপা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেন এমপি রুবেল ও জেলা প্রশাসক ৫-১ গোলের ব্যবধানে জয়ের পর বিশ্বকাপে ৫-১ গোলের ব্যাবধানেই পরাজয় সুইডেনের

ভোলায় নৌযান নিলামে মৎস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ…

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

 

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপুর বিরুদ্ধে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জব্দকৃত ৪৩টি নৌযানের নিলামের তথ্য গোপন করে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

কাগজে-কলমে মাত্র ১৯টি নৌযানের নিলাম দেখানো হলেও সরেজমিন অনুসন্ধানে ৬২টি নৌযান বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। গত তিন মাসের অনুসন্ধানে ২২ দিনের ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’ চলাকালীন এসব দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে দুলারহাট থানাধীন বাংলাবাজার এলাকার সবুজ মাঝির ট্রলার ব্যবহার করে ৩০টি এবং পাঁচ কপাট মৎস্যঘাটের আব্দুর রহমান মাঝির ট্রলার ব্যবহার করে ২১টি নৌযান আটক করেন। পরে এগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়। তবে নিলাম ফরমে মাত্র ১১টি নৌযানের তথ্য থাকলেও ৮টি ফরমে ওই কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন বাংলাবাজার এলাকার ট্রলার মাঝি সবুজ জানান, “নিষেধাজ্ঞার সময় আমার হাতে অনেক নৌকা ছিল। বাংলাবাজার মৎস্যঘাটে প্রায় ৩০টি নৌকা প্রকাশ্যে নিলাম দিয়েছে উপজেলা মৎস্য অফিস। আকারভেদে প্রতিটি নৌকা ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।”

একইভাবে পাঁচ কপাট মৎস্যঘাটের আব্দুর রহমান মাঝি জানান, মেঘনা নদীতে অভিযানকালে মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু পাঁচ কপাট ঘাটে ১৬টি এবং ফিশারিজ মৎস্যঘাটে ৫টি নৌকা নিলাম দিয়েছিলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যার নৌকা, সেই ব্যক্তিই নিলামে কিনে নিয়েছেন। তবে ফিশারিজ মৎস্যঘাটের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের ঘাটের ৫টি নৌকা নিলাম ছাড়াই মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত উপজেলাভিত্তিক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চরফ্যাশনে মাত্র ১৪টি ট্রলার ও ৫টি নৌকার নিলাম মূল্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৩০০ টাকা দেখানো হয়েছে। জেলেদের ধারণা, ৬২টি নৌযান যদি গড়ে ১০ হাজার টাকা করেও নিলাম হয়, তবে তার মূল্য দাঁড়ায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা (হিসাব অনুযায়ী)। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মা ইলিশ রক্ষায় নামমাত্র অভিযান দেখালেও এর আড়ালে ছিল মৎস্য কর্মকর্তার অবৈধ আয়ের নেশা। সামরাজ, নতুন স্লুইসগেট, বাংলাবাজার ও গাছিরখালসহ বিভিন্ন ঘাটের জেলেরা এই অনিয়মের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত (সরকারি সংশোধিত তারিখ অনুযায়ী বা আপনার দেওয়া ৩-২৫ অক্টোবর) ইলিশের প্রজনন রক্ষায় দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই সময়েই চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন জয়ন্ত কুমার অপু।

নৌযান নিলামের তথ্য গোপনের বিষয়ে জানতে রোববার বেলা আড়াইটায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “উপজেলা মৎস্য অফিস যে তথ্য দিয়েছে, আমরা তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews