
নির্বাচনী মাঠে প্রত্যাশিত সমর্থন ও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নাখোশ হয়ে উঠেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি শরিক দলের প্রার্থীরা আর্থিক সংকট ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়হীনতায় কার্যত হাবুডুবু খাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্যের দাবি, দলটির অধিকাংশ প্রার্থী প্রয়োজনীয় নির্বাচনী ব্যয় জোগাতে পারছেন না। প্রচারসামগ্রী, নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা এবং কর্মীদের খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যেখানে প্রতিদিন বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, সেখানে এনসিপির প্রার্থীরা নূন্যতম প্রচার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
শরিক দলগুলোর অভিযোগ, জামায়াত যেসব আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিতে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থীরা থেকে যাওয়ায় ভোট বিভক্ত হচ্ছে। এতে শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় আরও দুর্বল অবস্থানে পড়ছেন।
তবে জামায়াত এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, শরিকদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা অনেক আসনেই শরিক প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে রয়েছেন। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, দলীয় প্রার্থীদের ব্যয় মেটাতেই দলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, ফলে সব শরিককে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনলাইনে প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা থাকলেও বাস্তব ভোটের মাঠে টিকে থাকতে হলে শক্ত মাঠসংগঠন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সমন্বিত কৌশল জরুরি। সে জায়গায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরের এই অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে, জোটের ভেতরের সহযোগিতা ও আস্থার সংকট কাটাতে না পারলে এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের জন্য ভোটের মাঠে লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।