
ডেস্ক রিপোর্ট, শেরপুর ইনসাইট : শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল। সম্প্রতি সরকার প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা জেলার স্বাস্থ্যখাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্থান নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর ওপর নির্ভর করবে জেলার লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ, শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা। সাধারণভাবে একটি মেডিকেল কলেজের জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা প্রয়োজন, যেখানে পর্যাপ্ত জমি, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জেলার সব উপজেলার মানুষের সমানভাবে যাতায়াতের সুযোগ থাকে।
বিভিন্ন সফল মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসও বৃহৎ পরিসরের জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে হাসপাতাল, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা যায়।
শেরপুর জেলার প্রেক্ষাপটে সদর উপজেলার আশপাশের এলাকা অনেকের কাছে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে। কারণ জেলা সদর থেকে নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীসহ সব উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তুলনামূলক সহজ। পাশাপাশি বিদ্যমান জেলা হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার কাছাকাছি অবস্থান করলে স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়ও সহজ হবে। বর্তমানে শেরপুর সদর হাসপাতালের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে, ফলে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সেই চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে কেউ কেউ জেলার উত্তরাঞ্চল বা সীমান্তবর্তী এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি হলো, এসব অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থেকে তুলনামূলকভাবে বঞ্চিত এবং একটি মেডিকেল কলেজ সেখানে স্থাপিত হলে স্বাস্থ্যসেবার ভারসাম্যপূর্ণ বিস্তার ঘটবে। সম্প্রতি এ ধরনের মতামতও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে।
সবকিছু বিবেচনায়, শেরপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্থান নির্ধারণে রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক বিবেচনার চেয়ে জনস্বার্থ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা—যে স্থানই নির্বাচন করা হোক না কেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকটের স্থায়ী সমাধান হোক।